খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৮:৯ পিএম
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলামসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার শালহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শালহাটি এলাকার একটি ঘরে নিয়মিত জুয়ার আসর বসত। সেখানে স্থানীয় কয়েকজনের জড়ো হয়ে জুয়া খেলার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ওই ঘর থেকে শহিদুল ইসলামসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার শহিদুল ইসলাম ডিমলা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক। তিনি উপজেলার বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের ছেলে। একই অভিযানে গ্রেফতার অন্যদের মধ্যে রয়েছেন একই এলাকার সুরেশ সিংহ রায়ের ছেলে নির্মলেন্দ রায় (৪৬), শুজারু বর্মণের ছেলে দীনবন্ধু রায় (৫৪), বজেন্দ্র রায়ের ছেলে বিপুল রায় (৩২), শালহাটি এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে লাবলু ইসলাম (২৮), আকাশকুড়ি এলাকার নুরুল হকের ছেলে রফিকুর ইসলাম (৩২), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম (৪৫) এবং জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম গোলমন্ডা গ্রামের তালেব মোখছেদুর রহমান (৪০)।
পুলিশের ভাষ্য, স্থানীয়ভাবে ওই স্থানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক করার পাশাপাশি জুয়া খেলার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তবে ওই আসরে কতদিন ধরে জুয়া চলছিল, সেখানে নিয়মিত কারা অংশ নিতেন কিংবা জুয়ার সঙ্গে আর কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, গ্রেফতার আটজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিমলার শালহাটি এলাকায় পুলিশের এই অভিযানকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগের আইনগত সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য