খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা, হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও টাকা-মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ১০ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উক্ত অভিযোগে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন এ লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে থমথমে পরিস্থিতি ও জোরালো আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলায় এজাহারনামীয় অভিযুক্ত এনসিপির ১০ জন নেতা হলেন:
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী (কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক)
সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক)
নুর আলম চৌধুরী
ফখরুল জাকির
আ. হাই কামাল
রুহাম গাজী
মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন
নাহিদ উদ্দিন তারেক
আবু হেনা মোস্তফা কামাল
ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন তথা জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং স্মারক শোকসভায় অংশ নিতে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমবেত হন।
অভিযোগে দাবি করা হয়, সভা চলাকালে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী কোর্ট মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তাক্ত সংঘাত ঘটে। বাদী ইকবাল হোসেন রুকনের অভিযোগ, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনের নির্দেশে ও উপস্থিতিতে ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের শোকসভায় অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ককটেল, লোহার রড, রামদা, ধারালো ফিকল ও ইট-পাটকেল ব্যবহার করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করে। এতে জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী এবং মোজাক্কির হোসেন ইমন মারাত্মকভাবে আহত হন।
শারীরিক জখমের পাশাপাশি সেখানে ব্যাপক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সুযোগে হামলাকারীরা বাদী মো. ইকবাল হোসেন রুকন, মোজাক্কির হোসেন ইমন, মাহফুজ চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান গাজী ও শিমুল হাসানের ব্যবহৃত স্মার্টফোনগুলো ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া রক্সি ইসলাম নামের এক কর্মীর পকেট থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনতাই করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ গ্রহণের সত্যতা স্বীকার করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের বিশেষ টিম ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি গভীর অনুসন্ধান করছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য