ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় অনলাইনভিত্তিক মোবাইল গেম ‘ফ্রি ফায়ার’ খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যকার এই মারামারিতে চাকু ও চাকুর মতো ধারালো অস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়, যাতে অন্তত চারজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কসবা উপজেলার আছকিনা গ্রামে এক শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়ার সময় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আছকিনা গ্রামের গিয়াসউদ্দিন নামের এক শিক্ষকের কাছে বিকেলে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলের একদল শিক্ষার্থী। সেখানে পড়ালেখার ফাঁকে ‘ফ্রি ফায়ার’ নামের একটি অনলাইন গেমের বিভিন্ন বিষয় ও পয়েন্ট নিয়ে নবম ও অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে উসকানিমূলক তর্কাতর্কিতে রূপ নেয় এবং শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীদের চোখ এড়িয়ে তারা বাড়ির বাইরে এসে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করলে কতিপয় শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে বা সাথে থাকা চাকু ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র বের করে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে চারজন শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে রয়েছে কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী আজিজ ও এনামুল (১৫)। অন্য দুজন হলো আছকিনা কুল্লাবাড়ী বেসরকারি মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুল ও সামির (১৪)। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতিক আকরাম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসা চার শিক্ষার্থীর শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনের আঘাত আশঙ্কাজনক ও গভীর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়েছে। বাকি দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অনলাইন গেমের জেরে কিশোরদের মধ্যে এমন সহিংস আচরণ ও ধারালো অস্ত্র বহনের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতের বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত হননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


