খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে চার দিন ধরে অন্তত পনেরোটি গ্রামের প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। গত শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, বিশেষ করে চলমান মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর পড়াশোনার সুযোগ না থাকায় তাদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন চার্জ না থাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়া এবং গৃহস্থালি কাজে অসুবিধা জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কড়ইচড়া, চরপাকেরদহ, বালিজুড়ী, জোড়খালী এবং গুনারীতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। ঝড়ের পর থেকে অনেক এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ এবং দোকানপাটের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
| ইউনিয়ন | ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামসমূহ |
|---|---|
| কড়ইচড়া | ছালাবান্দা, ছোট ভাংবাড়ি, মহিষবাথান, পূর্ব মহিষবাথান, লালডোবা, পূর্ব নলছিয়া, ইলশামারী, চরগুজামানিকা, বাগলেরগড় |
| চরপাকেরদহ | দিকপাড়া |
| বালিজুড়ী | পূর্ব তারতাপাড়া |
| জোড়খালী | খিলকাটি পশ্চিমপাড়া |
| গুনারীতলা | উত্তর জোড়খালী, গুনারীতলা পূর্বপাড়া |
লালডোবা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারগুলো চরম কষ্টে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীরা। রাতের বেলা পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না, আর মোবাইল ফোন চার্জ না থাকায় জরুরি যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রিজে রাখা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।
পূর্ব তারতাপাড়া এলাকার জিহাদ আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শুধু আলো-বাতি নয়, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে খিলকাটি এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঝড়ের পর চার দিন কেটে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি চালু না হওয়ায় জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার্থী রায়হান আহমেদ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রস্তুতিতে বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মোমবাতি বা চার্জার লাইট ব্যবহার করে কোনোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঝড়ের কারণে একাধিক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকটি খুঁটি ভেঙে গেছে। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও জনবল সংকট ও বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের একমাত্র প্রত্যাশা, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা।