মিনাব স্কুল হামলার রহস্য উন্মোচিত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি ছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ধীরে ধীরে নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় দায় নির্ধারণকে ঘিরে নানা ধরনের দাবি ও তর্ক চলছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ এই ঘটনায় সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের দায় নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই দিনে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি নৌঘাঁটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। আধা-সরকারি ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ প্রথমবারের মতো এই হামলার দৃশ্য সম্প্রচার করেছে।

ভিডিওটি একটি নির্মাণাধীন এলাকা থেকে ধারণ করা হয়েছিল। এতে দেখা যায়, একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজ-এর গবেষক স্যাম লেয়ার সিএনএন-কে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির গঠন ও ডানা বিন্যাস মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত ‘বিজিএম/ইউজিএম-১০৯ টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল’-এর সঙ্গে মিল রয়েছে। সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরাইলের কাছে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নেই এবং এটি মূলত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে আঘাত করার পর ডানদিকে ক্যামেরা ঘোরালে ‘শাজারেহ তাইয়্যেবা’ স্কুলের কাছ থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে দৌড়াচ্ছে। যদিও ভিডিওতে সরাসরি স্কুলে আঘাতের মুহূর্ত ধরা পড়েনি, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্কুলের ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘাঁটিতে হামলা একই অভিযানের অংশ ছিল।

সিএনএন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আগে থেকেই স্যাটেলাইট চিত্র ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এ হামলার পেছনে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করতে স্কুলের ধ্বংসাবশেষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ৮ মার্চ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই হামলার বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রাথমিক ফলাফল ছাড়াই কোনো চূড়ান্ত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

নিচের টেবিলে হামলার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:

তথ্যের ধরন বিবরণ
স্থান মিনাব, ইরান
হামলার তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিহত ছাত্রী সংখ্যা ১৬০+
অভিযুক্ত মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার
লক্ষ্য আইআরজিসি নৌঘাঁটি, পার্শ্ববর্তী স্কুল
সূত্র মেহর নিউজ, সিএনএন, বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
তদন্তকারি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ, ইরানি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।