খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার, সিডনির স্টেডিয়াম থেকে পার্থ পর্যন্ত। সিডনিতে গ্রুপসেরা নির্ধারণের ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার লড়াই চোখ রাখলেও মন সবসময় পার্থে চলে যাচ্ছিল—বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল বনাম উজবেকিস্তান। এই ম্যাচে সাফল্য পেলেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে, স্বপ্নটা ছিল দুঃসাহসী, কিন্তু দলের ভেতর সেই বিশ্বাসই স্পষ্ট।
তবে পার্থের মাঠে বাস্তবতা স্বপ্নকে মুছে দিল। তিন পরিবর্তন নিয়ে নামা বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নিল। ১২ দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বিদায় সর্বপ্রথম।
বাংলাদেশের গ্রুপ থেকে তৃতীয় হয়ে টুর্নামেন্টে বেঁচে গেল উজবেকিস্তান। তারা শেষ আটে উঠবে কি না, তা নির্ধারিত হবে ‘সি’ গ্রুপের শেষ দিনের ম্যাচের ফলাফলের ওপর—ভিয়েতনাম বনাম জাপান এবং ভারত বনাম চাইনিজ তাইপে। অন্যদিকে, সিডনিতে চীন ২-১ গোলে উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বাংলাদেশের কাছে উজবেকিস্তানই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। র্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তান ৬৩ ধাপ এগিয়ে থাকলেও আশা ছিল অন্তত একটি ড্র করার। কিন্তু প্রথমার্ধেই উজবেক আধিপত্য দেখায়। ১০ মিনিটে দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভার গোল বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেয়। ৩১ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার শট রুখে দেন উজবেক গোলরক্ষক। ৪২ মিনিটে ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকু সুযোগ নষ্ট করলেও মারিয়া মান্দা ও গোলরক্ষক মিলি আক্তারের সেভের কারণে প্রথমার্ধে ব্যবধান সীমিত থাকে।
বিরতির পর আক্রমণ শক্ত করতে সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে নামান পিটার বাটলার। কিন্তু মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে না। ৬২ ও ৬৬ মিনিটে দিলদোরা নোজিমোভার দুই গোল দিয়ে স্বপ্ন শেষ করে দেন উজবেকিস্তান। ৮২ মিনিটে চতুর্থ গোল খেয়ে বাংলাদেশকে আর কোনো সান্ত্বনা গোলের সুযোগ মেলে না।
এই পারফরম্যান্সের বিস্তারিত নিম্নরূপ:
| সময় (মিনিট) | গোলদাতা | স্কোর (বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১০ | দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা | 0-1 | উজবেকিস্তানের প্রথম গোল |
| ৬২ | দিলদোরা নোজিমোভার | 0-2 | দ্বিতীয় গোল, স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় |
| ৬৬ | দিলদোরা নোজিমোভার | 0-3 | ব্যবধান আরও বাড়ল |
| ৮২ | আনিচিত | 0-4 | বাংলাদেশকে বিদায় নিশ্চিত |
যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন আর পূর্ণ হয়নি, এই প্রথমবারের এশিয়ান কাপ মূলপর্বে খেলার অর্জনই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক ইতিহাসের ধাপ। কঠিন প্রতিযোগিতায় সম্মুখীন হওয়া শিক্ষাই দলের বড় অর্জন। দেশে ফিরে দল এই অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের নতুন অভিযানে প্রস্তুত হবে।
এশিয়ান কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ হয়তো বড় সাফল্য দেয়নি, কিন্তু শেখার বড় পাঠ দিয়েছে—কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া, আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকা। এই অভিজ্ঞতা থেকেই আগামী এশিয়ান কাপে নতুন গল্পের সূচনা হবে, যেখানে স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মিলনে এক নতুন অধ্যায় লেখা হবে।