খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় আপন পুত্রবধূকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে ওমর আলী (৫৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। ২০২৬ সালের ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) ভোরের দিকে দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বসতবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ওমর আলী ওই উপজেলার নতিপোতা গ্রামের বাসিন্দা নুহু নবী শেখের ছেলে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে (বুধবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্ত ওমর আলী তাঁর পুত্রবধূর শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি তাঁর পুত্রবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও জঘন্য ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ লোকলজ্জা ও পারিবারিক সম্মানের ভয় উপেক্ষা করে ঘটনার দিনই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে এই অন্যায়ের প্রতিকার ও সুনির্দিষ্ট বিচার দাবি করেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে কোনো ধরনের প্রতিকার, সান্ত্বনা বা সহযোগিতা না পেয়ে তিনি চরমভাবে ভেঙে পড়েন।
শ্বশুরবাড়িতে ন্যায়বিচার পেতে ব্যর্থ হয়ে ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ২১ মে (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগী গৃহবধূ দামুড়হুদা থেকে রংপুরে অবস্থিত তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ২২ মে (শুক্রবার) তাঁকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর এবং ঘটনার দীর্ঘ ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। অতঃপর গত ৩ জুন (বুধবার) রাতে তিনি স্বয়ং বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত এজাহার পেশ করেন। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে। দায়েরকৃত এই মামলায় ভুক্তভোগীর শ্বশুর ওমর আলীকে একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের পর পরই দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল বুধবার দিবাগত শেষ রাতে এবং বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে নতিপোতা গ্রামে অভিযুক্তের বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে নিজ ঘর থেকে অভিযুক্ত ওমর আলীকে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আইনি প্রক্রিয়া ও আসামির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান ও একমাত্র আসামি ওমর আলীকে বৃহস্পতিবার ভোরেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যেই পুলিশ সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শুরু করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী গৃহবধূর শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সাথে গ্রেফতারকৃত আসামি ওমর আলীকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে থানা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।