খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যোগ হলো নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রা। বুধবার মিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই আক্রমণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং চলমান উত্তেজনায় তৈরি হতে পারে এক নতুন মোড়।
প্রাথমিক তদন্ত ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে পণ্য খালাসের সময়ে হামলাটি চালানো হয়। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যামব্রে’ জানিয়েছে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ‘এনারগোস উইন্টার’ নামক একটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়। ড্রোনের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং তা দ্রুত পাশে নোঙর করা আরেকটি জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সর্বশেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো গোষ্ঠী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি।
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এবারই প্রথম সরাসরি মিসরীয় ভূখণ্ড বা স্থাপনা আক্রান্ত হলো। দীর্ঘ দিন ধরে কায়রো এই অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল শিবিরের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছিল। কায়রো একদিকে যেমন উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আক্রমণের নিন্দা করেছে, তেমনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি যুদ্ধ থামানোর আহ্বানও জানিয়েছে। তবে তারা শুরু থেকেই নিজেদের সরাসরি কোনো যুদ্ধরত পক্ষে অন্তর্ভুক্ত না করে নিরপেক্ষ বজায় রেখেছিল।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হামলাটি সরাসরি তেহরান কিংবা তাদের সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র জোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ.এ. হেলিয়ার সিএনএনকে জানান, “এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের বার্তা দেওয়া হতে পারে যে, নিজেদের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে গিয়ে আঘাত হানার সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তবে মিসর স্বভাবজাতভাবেই আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা নীতি অনুসরণ করে, তাই তারা সরাসরি কোনো পাল্টা সামরিক অভিযানে জড়াবে না বলেই মনে হয়।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান ও মিসরের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানা কয়েক দশক চরম শীতলতা বজায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এমন সময়ে মিসরের বন্দরে এই হামলা দুই দেশের উদীয়মান সম্পর্কের সুবাতাস ও মিসরের মধ্যস্থতাকারী অবস্থানকে নতুন এক জটিলতার মুখে ফেলে দিলো।
মন্তব্য