খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের, স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লতিফ জাহান পূর্ণিমা এই রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৪৭ জন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব এবং টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আবেদনে আদালতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, হামের কারণে হওয়া মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা, সংক্রমণের বিস্তার, টিকাদানের বর্তমান হার, টিকার প্রাপ্যতা এবং সরকারি পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হোক।
এছাড়া কেন সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা হয়নি, টিকার ঘাটতি কেন তৈরি হয়েছে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে দেরির কারণ কী—এসব বিষয় অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রিটে জরুরি ভিত্তিতে দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টিকা, সিরিঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া চলমান সংক্রমণের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রয়োজন বলে আবেদনকারীর দাবি।
| বিষয় | রিটে চাওয়া নির্দেশনা |
|---|---|
| শিশু মৃত্যুর তদন্ত | ৪৭ মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন |
| তদন্ত কমিটি | স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত |
| টিকাদান কর্মসূচি | জরুরি জাতীয় হাম টিকাদান কার্যক্রম চালু |
| স্বাস্থ্য সরবরাহ | টিকা, সিরিঞ্জ ও লজিস্টিক নিশ্চিতকরণ |
| স্কুল বন্ধ | সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ |
| সরকারি ব্যর্থতা | টিকা ঘাটতি ও বিলম্বের কারণ নির্ধারণ |
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, টিকাদান কাভারেজে ঘাটতি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমন্বয়ের অভাব—সব মিলিয়ে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে “জীবনের জন্য আসন্ন ঝুঁকি” হিসেবে উল্লেখ করে আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
রিট আবেদনটি এখন হাইকোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করলে দেশের চলমান হাম পরিস্থিতি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।