খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির কারণে দেশের উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষা আবার শক্ত অবস্থান নিয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু এখন বেশ প্রবল। এর প্রভাবে দেশের আটটি বিভাগেই অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, একই সাথে কিছু এলাকায় নামতে পারে মাঝারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত। টানা পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়ার এই আর্দ্র ও বৃষ্টিস্নাত রূপ বজায় থাকতে পারে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আবহাওয়া অফিসের প্রকাশিত পরবর্তী পাঁচ দিনের (১২০ ঘণ্টা) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার আশেপাশের উপকূলীয় অঞ্চলে গঠিত লঘুচাপটিই বর্তমান বৃষ্টিপাতের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। এই লঘুচাপের কারণে নদী ও সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি বাতাসের চাপ তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানের পরিভাষায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের একটি বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গঠিত লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষের অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্ণ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামু্টি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
বৃষ্টিপাতের পরিধি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় সরাসরি বৃষ্টির প্রকোপ বেশি থাকবে। অন্যদিকে রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি নামতে পারে। এই সময়ে উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ সারা দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মৌসুমি বায়ু প্রবল থাকার কারণে উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে দমকা হাওয়ার সঙ্গে মেঘের ঘনত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশালের নদী অববাহিকা ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতে হঠাৎ টানা বর্ষণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। আর লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রের ঢেউ ও বাতাসের গতিবেগ কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তাপমাত্রার বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে দিন শেষে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার ফলে বৃষ্টি থামার মধ্যবর্তী সময়ে কিছুটা ভ্যাপসা গরমও অনুভূত হতে পারে।
সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের উদ্দেশ্যে আবহাওয়াবিদরা জানান, বর্ষার এই স্বাভাবিক প্রভাবে ফসলি জমির জন্য পানি পাওয়ার সুবিধা হলেও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া কিংবা পাহাড়ি ধসের ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পরবর্তী বার্তা না দেওয়া পর্যন্ত বিশেষ করে সমুদ্র ও নদীপথের যানগুলোকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।