ঈদের দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রোগীর চাপ বৃদ্ধি

ঈদের দিন ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)–এর জরুরি বিভাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় এই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা তীব্রভাবে বেড়ে যায়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষ আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসেন। অধিকাংশ রোগীর আঘাত সড়ক দুর্ঘটনার, বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে। কারো হাত ভেঙেছে, কারো পা, আবার কেউ ছোটখাটো চোট নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জরুরি বিভাগের এক নার্স জানান, “আজ রোগীর সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রতিটি শিফটে তিনজন চিকিৎসক, ৭-৮ জন নার্স ও সহকারী কর্মীরা রোগী সেবায় ব্যস্ত।” বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অন্তত ১৫১ জন রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।

নরসিংদী থেকে আসা এইচএসসি পরীক্ষার্থী জুবায়ের (১৮) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার স্বজনরা জানান, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

অন্যদিকে, ২৫ বছর বয়সী রাকিব ইসিবি চত্বরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে বাম হাত ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার জন্য সিএনজি চালক দায়ী, কিন্তু ক্ষতির শিকার হয়েছেন নিজেই।

১০ শয্যার জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ এতটাই বেশি ছিল যে অনেককে ট্রলিতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হয়েছে। জরুরি অপারেশনের জন্য কয়েকজন রোগীকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, “ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির কারণে প্রতিবছরই রোগীর চাপ বেড়ে যায়। গত বছর তিন চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনা বেশি ছিল, তবে এবার মোটরসাইকেল চালকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।” তিনি আরও জানান, প্রতি শিফটে ১৮ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নিচের টেবিলে ঈদের দিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি বিভাগের পরিস্থিতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

সময়কাল রোগীর সংখ্যা প্রধান আঘাতের ধরন চিকিৎসক সংখ্যা নার্স ও সহকারী সংখ্যা
সকাল ৮টা–দুপুর ১টা 72 হাত, পা ভাঙা, ছোট আঘাত 18 8
দুপুর ১টা–বিকেল ৫টা 79 মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, চোট 18 8
মোট 151 বিভিন্ন – –

জরুরি বিভাগের এই চাপিত পরিস্থিতি এ কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, ঈদের মতো ছুটির দিনে সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতার অভাব কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। হাসপাতালের তৎপরতা থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়ক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে পালন।

এভাবে, নিটোরে ঈদের দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ শুধু সংখ্যাগত নয়, রোগীর বৈচিত্র্য এবং চিকিৎসা চাহিদার দিক থেকেও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।