সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) এবং মেটলাইফ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ৪০ জন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষতা বৃদ্ধি, আয়মুখী কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা।
এই কার্যক্রম ২০২৫ সালে শুরু হওয়া ‘জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ, যা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, পোশাক তৈরি ও টেইলরিং বিষয়ে।
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনের প্র্যাক্টিক্যাল অভিজ্ঞতা এবং ব্যবসা পরিচালনা ও আয়মুখী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এটি দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সিআরপি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণকালে সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা, থেরাপি এবং অন্যান্য সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার পথকে সুগম করছে।
মেটলাইফ ফাউন্ডেশন উল্লেখ করেছে, এই উদ্যোগ অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে, আগামী কয়েক মাসে আরও ১১০ জন অংশগ্রহণকারীকে একই ধরনের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | প্রশিক্ষণ বিষয় | অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা | সহায়তার ধরন |
|---|---|---|---|
| ১ | কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন | ১৫ | সার্টিফিকেশন ও ব্যবসায়িক পরামর্শ |
| ২ | ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল সার্ভিসিং | ১০ | সরঞ্জাম ও বাস্তব অভিজ্ঞতা |
| ৩ | পোশাক তৈরি ও টেইলরিং | ১৫ | যন্ত্রপাতি ও বাজার সংযোগ সহায়তা |
এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজস্ব ব্যবসা শুরু, আয়ের উৎস বৃদ্ধি এবং সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে সহায়ক।
সিআরপি ও মেটলাইফ ফাউন্ডেশন আশা করছে, এই উদ্যোগ বিশেষভাবে সক্ষম জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফলে, ‘জাগরণ’ কর্মসূচি বিশেষভাবে সক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই জীবিকা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।



