খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩২ | ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংক মার্চ থেকে টাকার ধীর অবমূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক তেলের মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক যুদ্ধের কারণে তৈরি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পূর্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার নীতি অনুসরণ করলেও, সম্প্রতি তা থেকে সরে এসে ধীর অবমূল্যায়নের পথ গ্রহণ করেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য দুটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে – মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করা। উচ্চতর তেল আমদানি ব্যয় রিজার্ভ হ্রাস করতে পারে এবং এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের পরিচালক জ্যেষ্ঠ এজাজুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান তেল শক ও সরকারের সম্প্রসারক বাজেট নীতির প্রেক্ষাপটে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধীরে ধীরে টাকার অবমূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এটি রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাজার অস্থিরতার প্রভাব হ্রাস করবে।”
নতুন সরকারের বাজেট নীতি ও নির্বাচনের পর ঋণ এবং ব্যবসায় সম্প্রসারণের চাহিদা বিনিময় হারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই সময়ে ধীর অবমূল্যায়ন গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৮ মার্চ থেকে টাকার মান ডলারের তুলনায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ডলারের বিনিময় হার প্রায় ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে, যা পূর্বে ১২২.৩০ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। ২৯ মার্চের রিয়েল ইফেকটিভ এক্সচেঞ্জ রেট (REER) ১২৬ টাকা ছিল, যা নির্দেশ করছে, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ৩.২৪ টাকার অবমূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।
নিচে টাকার অবমূল্যায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | ২৯ মার্চ, ২০২৬ | দুই সপ্তাহ পূর্বে | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ | ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার | ২৯.৫৯ বিলিয়ন ডলার | সামান্য হ্রাস |
| ডলার প্রতি টাকার বিনিময় হার | ১২৩.০০ টাকা | ১২২.৩০ টাকা | ধীর বৃদ্ধি |
| রিয়েল ইফেকটিভ এক্সচেঞ্জ রেট (REER) | ১২৬ টাকা | ১২৫.৫ টাকা | অবমূল্যায়নের সুযোগ বিদ্যমান |
| বিনিময় হার সীমা (উচ্চ) | ১৩০ টাকা | – | ৫.৬% পর্যন্ত অবমূল্যায়ন সম্ভব |
টাকার অবমূল্যায়ন রপ্তানি ও প্রবাসী রেমিট্যান্সকে উৎসাহিত করবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি হ্রাস পেতে পারে। অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী, তেল ও বিনিময় হার শকের সংমিশ্রণে ২০২৬ সালের মধ্যে রিজার্ভ প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের কমে যেতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি ০.৫ থেকে ২ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তেল আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক মনিটরি ফান্ডের কাছে সহায়তা চাইবে। এটি চলমান ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রোগ্রামের বাইরে আলাদা সহায়তা হিসেবে কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে ব্যাঙ্কগুলিকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ডলার কেনাবেচার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক তত্বাবধায়ক সংস্থা মনে করাচ্ছে, বিনিময় হার অবশ্যই বাজারভিত্তিক হওয়া উচিত।
এই ধীর অবমূল্যায়ন পদক্ষেপ অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করার এবং জ্বালানি শকের প্রভাব সামলানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মোটকথা, টাকার ধীর অবমূল্যায়ন নীতি বর্তমানে রক্ষণশীল হলেও প্রয়োজনীয় একটি নীতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।