বগুড়ার মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এর মহা আয়োজনকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানস্থল মোমো ইন প্রাঙ্গণ ইতিমধ্যেই পরিণত হয়েছে দেশের শীর্ষ সংগীতশিল্পী ও বিনোদন জগতের তারকাদের মিলনমেলায়। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই উন্মুক্ত মঞ্চে চলতে থাকে শিল্পীদের মহড়া, যেখানে একে একে অংশ নেন খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পীরা।
এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। তিনি মহড়াস্থলে উপস্থিত হয়ে সহশিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পুরো পরিবেশে এক অনন্য উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেন। অন্যদিকে লোকসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি কাঙালিনী সুফিয়া তাঁর কণ্ঠে পরিবেশন করেন জনপ্রিয় লোকগান “মাটির গাছে লাউ ধরেছে”, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। গান শেষে তিনি রুনা লায়লাকে জড়িয়ে ধরেন, যা পুরো পরিবেশকে আরও হৃদয়ছোঁয়া করে তোলে।
আয়োজকদের মতে, এবারের অনুষ্ঠানটি কেবল একটি পুরস্কার বিতরণী নয়, বরং এটি দেশের সংগীত ইতিহাসে একটি “অভূতপূর্ব সমাবেশ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিনোদন অঙ্গনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
মহড়ার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুনা লায়লা বলেন, তিনি বহু বছর ধরে কাঙালিনী সুফিয়ার গান শুনে আসছেন এবং তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এই আন্তরিক মন্তব্যে পুরো পরিবেশ আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।
কাঙালিনী সুফিয়া তাঁর মেয়ে ও নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়ায় আসেন। অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। এই সম্মাননা লোকসংগীতে তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আয়োজনস্থলে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, যিনি পুরো আয়োজনের সার্বিক তদারকিতে রয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠানটি আরও সুসংগঠিত ও বর্ণাঢ্য রূপ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
মহড়া ও আয়োজনের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অনুষ্ঠান | টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫ |
| স্থান | মোমো ইন, বগুড়া |
| প্রধান আকর্ষণ | রুনা লায়লা ও কাঙালিনী সুফিয়ার উপস্থিতি |
| বিশেষ পরিবেশনা | “মাটির গাছে লাউ ধরেছে” লোকগান |
| সম্মাননা | কাঙালিনী সুফিয়া |
| আয়োজক প্রতিনিধি | ফরিদুর রেজা সাগর |
এদিকে পুরো বগুড়া শহর এখন সংগীত উৎসবের আবহে মুখরিত। শহরের হোটেল, অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা জুড়ে শিল্পীদের আগমন ও মহড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আগামী মূল অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা এখন শুধুই সময়ের, যেখানে দেশের শীর্ষ সংগীতশিল্পীরা এক মঞ্চে মিলিত হবেন এবং সঙ্গীতের এক অনন্য অধ্যায় রচনা করবেন।



