খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে চৈত্র ১৪৩২ | ৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং প্রবাসী আয় প্রবাহের ওপর মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। প্রতিদিনের মতো আজও (৭ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় হার প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতির ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা নিয়মিতভাবে দেশে অর্থ পাঠান, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয়, জ্বালানি তেল ও শিল্প কাঁচামালের দামও মুদ্রার বিনিময় হারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
আজকের বাজারে মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ১২২ টাকা ৮০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। ইউরো এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মতো শক্তিশালী মুদ্রাগুলোর ক্ষেত্রেও সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এই ওঠানামার প্রধান কারণ।
| মুদ্রার নাম | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.৮০ | ১২২.৮৫ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬২.৪৮ | ১৬২.৬০ |
| ইউরো | ১৪১.৭২ | ১৪১.৭৯ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৬ | ০.৭৬ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৪.৯২ | ৮৪.৯৮ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৫.৫৪ | ৯৫.৬৪ |
| কানাডীয় ডলার | ৮৮.২৬ | ৮৮.৩২ |
| ভারতীয় রুপি | ১.৩১ | ১.৩২ |
| সৌদি রিয়াল | ৩২.৬২ | ৩২.৫০ |
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে ভবিষ্যতে সামান্য ওঠানামা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি, ইউরোপীয় বাজারের মন্দা বা পুনরুদ্ধার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, প্রবাসী আয় প্রবাহ বাড়লে স্থানীয় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পায়, যা টাকার মান কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। তবে আমদানি নির্ভর অর্থনীতির কারণে ডলার চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে, ফলে বিনিময় হারেও চাপ তৈরি হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় রাখতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রবাসী আয়ের সুষ্ঠু ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তাও বাজার স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে।
সামগ্রিকভাবে আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এর ভবিষ্যৎ ওঠানামা নির্ভর করবে।