আহত পরীক্ষার্থীর নাম কাজী আহমেদ আশ্রাফী নাবিল। তিনি হরিপুর আলী আকবর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মোটবী ইউনিয়নের শিলুয়া গ্রামের কাজী নুরুল আবছার রিপনের ছেলে। অভিযুক্ত হিসেবে একই উপজেলার গতিয়া আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই অভিযুক্ত রাকিব নাবিলের পেছনের বেঞ্চে বসত। ওই সময় সে নাবিলের খাতা দেখে নকল করার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করা হয়। এতে নাবিল আপত্তি জানালে প্রথম দিনই কেন্দ্রের বাইরে তাকে গালাগাল করা হয় বলে জানা যায়।
ঘটনার দিন শেষ পরীক্ষার পর কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরপরই পূর্বের বিরোধের জেরে নাবিলের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাকিবসহ আরও ৭-৮ জন যুবক তাকে ঘিরে ফেলে প্রথমে মারধর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় নাবিলকে উদ্ধার করে প্রথমে বাংলাবাজার এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত শিক্ষার্থীর মা নার্গিস আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে এমন সহিংস ঘটনার কারণে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনার পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুনরায় ঘটার আশঙ্কা থাকে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।



