রাজশাহীর বাগমারা থানার তদন্ত শাখার পরিদর্শক কমলেশ দাসের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয় এবং তাকে রাজশাহী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে রোববার রাতে, যখন প্রায় বায়ান্ন সেকেন্ডের একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে বসে আছেন। এ সময় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর হাতে একটি খাম তুলে দেন। পরে তিনি টেবিলের নিচে নিয়ে খামের ভেতর থেকে টাকা বের করে গুনে মানিব্যাগে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তিনি হাসিমুখে কথাবার্তা বলছেন এবং টেবিলের ওপর থাকা একটি খাতার কিছু অংশ দেখাচ্ছেন।
তবে ভিডিওতে অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট নয় এবং তাঁদের কথোপকথনের শব্দও অনুপস্থিত। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য কিংবা অর্থ লেনদেনের কারণ সম্পর্কে সরাসরি কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই অনিশ্চয়তার কারণে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ভিডিওটি প্রথমে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ থেকে প্রকাশিত হয় এবং দ্রুত তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন পর্যায়ে। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বেলা ১১টার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | বাগমারা থানা, রাজশাহী |
| অভিযুক্ত কর্মকর্তা | কমলেশ দাস, পরিদর্শক (তদন্ত) |
| ভিডিওর দৈর্ঘ্য | ৫২ সেকেন্ড |
| ভিডিও প্রকাশের সময় | রোববার রাত |
| প্রাথমিক পদক্ষেপ | থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার |
| বর্তমান অবস্থান | রাজশাহী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত |
| তদন্তের অবস্থা | চলমান |
জানা গেছে, কমলেশ দাস প্রায় তিন মাস আগে বাগমারা থানার তদন্ত শাখায় যোগদান করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তার কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিডিওটি কে বা কীভাবে ধারণ করেছে তা তিনি নিশ্চিত নন। তিনি আরও দাবি করেন, অনেক সময় বিভিন্ন খাতে স্থানীয়ভাবে অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে ভিডিওতে প্রদর্শিত অর্থ কোন উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকে মন্তব্য করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে পুলিশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।



