খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় আর্থিক লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাতিজার কিল-ঘুসিতে নিয়ামত উল্ল্যা (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কামালহাট গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নিয়ামত উল্ল্যা ওই গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ভাতিজা এরশাদ উল্ল্যা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কামালহাট গ্রামের বাসিন্দা চাচা নিয়ামত উল্ল্যার সঙ্গে তার ভাতিজা এরশাদ উল্ল্যার দীর্ঘ দিন ধরে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে ইতিপূর্বেও তাদের মধ্যে একাধিকবার মৃদু উত্তেজনা ও বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। ঘটনার দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেলে কামালহাট গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে টাকা-পয়সার ওই পুরোনো হিসাব-নিকাশ নিয়ে চাচা ও ভাতিজার মধ্যে নতুন করে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঝগড়ার একপর্যায়ে ভাতিজা এরশাদ উল্ল্যা ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা নিয়ামত উল্ল্যাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। ভাতিজার উপর্যুপরি কিল-ঘুসির আঘাতে নিয়ামত উল্ল্যা গুরুতর আহত হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার এই অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং আইনি পদক্ষেপের তথ্য একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও ফ্যাক্টস |
| ১. | নিহত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় | নিয়ামত উল্ল্যা, পিতা- মৃত ইমান আলী |
| ২. | অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় | এরশাদ উল্ল্যা (নিহতের আপন ভাতিজা) |
| ৩. | ঘটনার স্থান ও ইউনিয়ন | কামালহাট গ্রাম, কোলা ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ |
| ৪. | ঘটনার তারিখ ও সময় | মঙ্গলবার, ৯ জুন; বিকেল ৩:৩০ ঘটিকা |
| ৫. | ঘটনার মূল কারণ | দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ |
| ৬. | মৃত্যুর ধরন ও আঘাত | মারামারির সময় ভাতিজার কিল-ঘুসির আঘাতে গুরুতর জখম ও মৃত্যু |
| ৭. | আইনি বর্তমান স্থিতি | সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ |
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, টাকা-পয়সা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে।