খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুন ২০২৬, ৬:৬ পিএম
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় এক নবজাতকতুল্য ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুর রহিম নামের ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা নিজে বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। নির্যাতিত ওই শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরের পর কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ সাংবাদিকদের নিকট এই গণধর্ষণ বা ধর্ষণের ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু হওয়ার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজহার ও পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন সকালে শিশুটির মা তার মেয়েকে বাড়ির পাশের একটি হাওরে চরে থাকা গরু আনতে পাঠান। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও শিশুটি বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং দেরি হতে দেখে কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা নিজেই খোঁজার উদ্দেশ্যে হাওরের দিকে যান। হাওরে পৌঁছে নিজের মেয়েকে তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে না পেয়ে তিনি চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে খোঁজাখুঁজির ধারাবাহিকতায় তিনি স্থানীয় ধলেশ্বর হাওরের মাঝখানে অবস্থিত একটি গাব গাছের নিচে অভিযুক্ত আব্দুর রহিমকে তার ৯ বছরের শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করতে দেখেন। ওই সময় শিশুটির গোঙানি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তার মা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম ধরা পড়ার ভয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত দৌঁড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অভিযুক্ত আব্দুর রহিম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে।
ভয়াবহ এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় জানাজানি হলে একপর্যায়ে কিছু প্রভাবশালী সমাজপতি অভিযুক্ত বৃদ্ধের পক্ষাবলম্বন করেন। তারা গ্রামীণ শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ধামাচাপা দেওয়ার এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার অপচেষ্টা চালান। তবে পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশের বিশেষ তৎপরতার কারণে বিষয়টি প্রশাসনিক রূপ লাভ করে। গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সেখানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা এবং ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য তাকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনার পর থেকে মামলা করার মধ্যবর্তী সময়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আইনি পরামর্শ ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বিবেচনার কারণে মামলাটি দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে বাদী তথা শিশুটির পিতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
এই নিষ্ঠুর ও লোমহর্ষক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিশুটির মা গণমাধ্যমকে বলেন যে, তার অবুঝ শিশুর সঙ্গে যে নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটেছে, তা তাদের পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জোর দাবি জানান।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ মামলার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে শিশুটির বাবা থানায় উপস্থিত হয়ে আব্দুর রহিম নামের ওই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামি এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য