খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় ফসলি জমিতে কৃষিকাজ করার সময় এক মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মাঠে বাবার সাথে একসাথে ধানের চারা রোপণ করার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বাবার চোখের সামনেই ঘটে যাওয়া এই বজ্রাঘাতের ঘটনায় ছেলের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হলেও অলৌকিকভাবে অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন তার পিতা। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের অন্তর্গত সীমারকান্দা গ্রামের একটি বিস্তীর্ণ কৃষি মাঠে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারানো ওই কিশোরের নাম মিনহাজুর রহমান। ১৫ বছর বয়সী মিনহাজুর রহমান দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের সীমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র ছিল বলে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে অবসরে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি কাজে তার পিতাকে মাঠে সহযোগিতা করত। ওই দিনও সে বাবার সাথে জমিতে কৃষিকাজে অংশ নিয়েছিল। এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় নিহত কিশোরের পরিবার পরিজনসহ সমগ্র সীমারকান্দা গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন নিহত মিনহাজুর রহমানের নিকট আত্মীয় এবং এলাহাবাদ গ্রামের স্থানীয় নারী নেত্রী শামিমা আক্তার রীমা। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানান যে, মঙ্গলবার বিকেলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন ও তার কিশোর ছেলে মিনহাজুর রহমান নিজেদের জমিতে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন।
বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ করে তীব্র শব্দে ওই কৃষি মাঠের ওপর একটি প্রচণ্ড বজ্রপাত বা বজ্রাঘাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রাঘাতটি সরাসরি মাঠে কর্মরত মিনহাজুরের ওপর পতিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কিশোর মিনহাজুর মারাত্মকভাবে ঝলসে যায় এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার প্রাণস্পন্দন থেমে যায়। তবে অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও অলৌকিকভাবে তার ঠিক পাশেই অবস্থান করা পিতা বিল্লাল হোসেন সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ থাকেন। চোখের সামনে ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মাঠের অন্য কৃষকেরা এগিয়ে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বজ্রাঘাতের এই ঘটনাটি দেবীদ্বার থানা পুলিশ প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছেন দেবীদ্বার থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেবীদ্বার উপজেলার সীমারকান্দা গ্রামে বজ্রাঘাতে এক কিশোরের নিহত হওয়ার ঘটনার বিষয়ে জানতে চান।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান আরও স্পষ্ট করেন যে, বজ্রাঘাতে মৃত্যুর এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত দুর্ঘটনা হওয়ায় এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত নিহত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে থানায় কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ বা ডায়েরি পেশ করা হয়নি। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে। জোরপূর্বক বা অন্য কোনো ঘটনার সংশ্লেষ না থাকলেও স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওই এলাকায় লোক পাঠিয়ে বিষয়টির সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।