খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুন ২০২৬, ৫:৩ পিএম
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক মামলার আসামি ও স্থানীয় যুবদলকর্মী শহিদুল্লাহ রাসেল (৪১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের আটিটি গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। রাজনৈতিকভাবে তিনি পেরুল উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) বিকেলে সাংবাদিকদের নিকট শহিদুল্লাহ রাসেলের মৃত্যুর এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান।
পুলিশ ও কারাগারের দাপ্তরিক সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ১০ মে বিকেলে লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের শাসনপাড়া গ্রাম থেকে ১০২ পিস ইয়াবাসহ শহিদুল্লাহ রাসেলকে গ্রেপ্তার করে লালমাই থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন অর্থাৎ ১১ মে বিকেলে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারের হাজতি হিসেবে থাকা অবস্থায় তিনি শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান রাসেলের অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিবরণ দিয়ে জানান, গত ১৯ মে কারা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই আসামির কাশি ও নিউমোনিয়াজনিত রোগের লক্ষণ দেখে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৫ জুন তিনি পুনরায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কিছু জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন।
এর পরদিন অর্থাৎ ১৬ জুন আদালতে তাঁর মামলার নির্ধারিত হাজিরা থাকায় তাঁকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার (১৭ জুন) তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর ও ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন বিকেলেই তিনি ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ অর্থাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আক্রান্ত হন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া মেনে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মৃতদেহটি তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শহিদুল্লাহ রাসেলের অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্ত্রী হালিমা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুঠোফোনে কল করে আটিটি বাজার থেকে শাসনপাড়া গ্রামে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে আটকে রেখে ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে লালমাই থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।” তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামীকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কারাগারে মারা যাওয়া শহিদুল্লাহ রাসেল পেরুল উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। রাসেলের পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে—তা অত্যন্ত গুরুতর। তাঁকে একটি সাজানো ও মিথ্যা মাদক মামলায় অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছিল। তিনি এই পুরো ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তদন্ত দাবি করেন এবং একই সাথে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
বর্তমানে শহিদুল্লাহ রাসেলের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর তাঁর নিজ গ্রামে দাফন করার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বা লালমাই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ বা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আসামির পূর্ববর্তী মামলার নথিপত্র এবং হাসপাতালের চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য