উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি: নীলফামারীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বন্যার আশঙ্কা

উজানের পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ শনিবার সকালের দিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছায়। এর ফলে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলোতে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদী অববাহিকার এই পানিসম্পদ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই তিস্তা নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। পরবর্তী ১২ ঘণ্টায়, অর্থাৎ আজ শনিবার সকাল ৬টায় পানির স্তর আরও ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটারে গিয়ে পৌঁছায়, যা ডালিয়া পয়েন্টের নির্ধারিত বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে সকালের দিকে উজান থেকে ঢলের চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় সকাল ৯টায় পানি ৮ সেন্টিমিটার কমে ৫২ দশমিক শূন্য ২ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। উল্লেখ্য, এই ডালিয়া বা দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির স্বাভাবিক বিপৎসীমা হলো ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।

শনিবার তিস্তা নদীর পানির ওঠানামার একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান নিচে ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:

সময় ও তারিখ তিস্তা নদীর পানির স্তর (সেন্টিমিটারে) বিপৎসীমার সাপেক্ষে অবস্থান (বিপৎসীমা ৫২.১৫ সেমি)
গতকাল শুক্রবার (সন্ধ্যা ৬টা) ৫১.৯৫ সেন্টিমিটার ২০ সেন্টিমিটার নিচে
আজ শনিবার (সকাল ৬টা) ৫২.১০ সেন্টিমিটার ০৫ সেন্টিমিটার নিচে
আজ শনিবার (সকাল ৯টা) ৫২.০২ সেন্টিমিটার ১৩ সেন্টিমিটার নিচে

নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু নিচু এলাকা ইতিমধ্যেই প্লাবিত হতে শুরু করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, নদীর পানি বাড়তে থাকার কারণে নিম্নাঞ্চলের কিছু নিচু এলাকা ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে এবং চাষাবাদের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, চরাঞ্চলের মূল আবাসিক এলাকার বাড়িঘরে এখনও বন্যার পানি সরাসরি প্রবেশ করেনি। নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, উজানের পাহাড়ি ঢলের এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে যেকোনো মুহূর্তে চরাঞ্চলগুলো পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ও তিস্তা ব্যারাজের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে পানির চাপ সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে আশার কথা হলো, সকাল ৯টার পর থেকে পানি ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে। ঢলের অতিরিক্ত পানির চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যারাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিস্তা ব্যারাজের মোট ৪৪টি জলকপাটই (স্লুইস গেট) সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বা খোলা রাখা হয়েছে, যাতে নদীর পানি স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হতে পারে। পাউবোর এই কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে নদীর অববাহিকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।