খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুন ২০২৬, ৮:৫৮ এএম
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। দেশটির লেইতে প্রদেশের তাকলোবান শহরে অবস্থিত সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে সংঘটিত এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ফিলিপাইনের পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টার দিকে বারাঙ্গাই সান হোসে এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হঠাৎ করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রম চলছিল। আকস্মিক এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলিবর্ষণের ফলে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন হতাহত হন, পরে আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তাকলোবান সিটি পুলিশ অফিস জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। অপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
তাকলোবান পুলিশের প্রধান নোয়েলিতো গেটিগান সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীরা একটি .৩৮ ক্যালিবার রিভলভার এবং একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল ব্যবহার করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুল, তাকলোবান, লেইতে |
| ঘটনার সময় | স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা |
| নিহত | ৩ জন |
| আহত | ৫ জন |
| আটক সন্দেহভাজন | ২ জন |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | .৩৮ ক্যালিবার রিভলভার ও ৯ মিলিমিটার পিস্তল |
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভেতরে ও আশপাশে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি অবশিষ্ট না থাকে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সন্দেহভাজনদের গতিবিধি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে এবং কেবল সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ফিলিপাইনেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ ধরনের সহিংস ঘটনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে বিদ্যালয়ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মন্তব্য