জলাবদ্ধতার মধ্যে ড্রেনে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুন ২০২৬, ৮:৫১ এএম
কুমিল্লা নগরীর ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় খোলা ও ঝুঁকিপূর্ণ ড্রেনে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ভারী বর্ষণের পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, ভাঙা স্ল্যাব এবং খোলা ড্রেনের কারণে এলাকার সড়ক ও ফুটপাত পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রোববার (২১ জুন) রাত প্রায় নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই সময় কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকার সড়ক ও আশপাশের স্থানও পানিতে তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশু তার মায়ের সঙ্গে ড্রেনের ওপর নির্মিত ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে থাকা ড্রেনের একটি ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক পানির নিচে ঢেকে ছিল। জলাবদ্ধতার কারণে সেটি খালি চোখে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হাঁটার সময় শিশুটি ওই ফাঁক দিয়ে ড্রেনের প্রবল স্রোতের পানিতে পড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটার পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে দ্রুত বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে অনুসন্ধানের পর কিছু দূরে ড্রেনের ভেতরে একটি হাত আটকে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। তবে উদ্ধারকালে তার মধ্যে আর প্রাণের কোনো স্পন্দন পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বিষয়
তথ্য
স্থান
ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকা, কুমিল্লা নগরী
ঘটনার সময়
রোববার রাত প্রায় ৯টা
ভুক্তভোগী
৮-১০ বছর বয়সী শিশু
দুর্ঘটনার কারণ
ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনে পড়ে যাওয়া
পরিবেশগত অবস্থা
ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতা
উদ্ধার সময়
প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার দিন এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কিছু কাজ চলছিল। এ কারণে কয়েকটি ড্রেনের ঢাকনা খোলা ছিল বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রবল বর্ষণে সড়কে পানি জমে যাওয়ায় কোন অংশ নিরাপদ আর কোন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পথচারীরা অজান্তেই বিপদের মুখে পড়েন।
এলাকাবাসী আরও জানান, কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশের ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। অনেক স্থানে স্ল্যাব ভাঙা, কোথাও স্ল্যাবের মাঝখানে বড় ফাঁক, আবার কোথাও ড্রেনের ঢাকনা আংশিক বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বিশেষ করে রাতের বেলা কিংবা জলাবদ্ধতার সময় এসব ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নগরীর ড্রেন ব্যবস্থাপনার দ্রুত সংস্কার, খোলা ড্রেন ঢেকে দেওয়া, ভাঙা স্ল্যাব মেরামত এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যথাযথ নজরদারি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নগরীর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য