কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা চলাকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উপস্থিতিতেই ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে চরম হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সভা চলাকালে হঠাৎ করেই আধিপত্য বিস্তার ও অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উচ্চপর্যায়ের দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সরকারের প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সভাস্থলজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সভা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার করার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভা চলাকালে হঠাৎ মঞ্চের সামনে ও মিলনায়তনের একপাশে বসা নিয়ে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই তর্কাতর্কি থেকে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সরাসরি মারামারিতে রূপ নেয়।
ঘটনার আকস্মিকতায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা হতবাক হয়ে পড়েন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের বারবার মাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ ও হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও দুই পক্ষের বিশৃঙ্খলা থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। মারামারির সময় সভাস্থলের বেশ কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রবীণ নেতাদের তৎপরতায় ও দলীয় নিরাপত্তাকর্মীদের কড়া হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক বলয়ের সক্রিয়তা বিদ্যমান। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ পদ-পদবি, আঞ্চলিক আধিপত্য ও মঞ্চে উপস্থিতি জাহির করা নিয়ে নেতাদের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতির এই সভায়। ভিআইপি অতিথির সামনেই দলীয় নেতাকর্মীদের এমন বিশৃঙ্খলা ও সহিংস আচরণ দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে চরমভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সংগঠনের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের অঘটন ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সম্পূর্ণ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কারা এই গোলযোগ সৃষ্টি করেছে এবং কার নির্দেশে প্রতিমন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা ঘটানো হলো, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


