লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান হত্যার ঘটনায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন রামগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলের সুপার ও সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত এক শিক্ষক এবং একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে ১৬ জুন বিকেলে উপজেলার ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।
নিহত মেহেদী হাসান উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার পর ১৮ জুন তার বাবা বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় দশজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শারীরিক নির্যাতনের পর মেহেদী হাসানের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন শিক্ষক এবং অন্যজন শিক্ষার্থী। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
তারিখ
ঘটনা
১৬ জুন
আবাসিক হল থেকে মেহেদী হাসানের মরদেহ উদ্ধার
১৬ জুন
এলাকায় উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা
১৮ জুন
হত্যা মামলা দায়ের
১৮ জুন
তদন্তে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু
২২ জুন
দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় এখনো উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার ঘাটতি এই ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
মন্তব্য