ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তৈরি করা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৮১ জনকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সংগৃহীত এই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই আটকে আছেন।
ভূমিকম্পের পরপরই বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেক অঞ্চলে তথ্য আদান–প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের খোঁজে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কেউ নিখোঁজ হলে অথবা ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য থাকলে তা সরকারি ‘ভেনঅ্যাপ’ মাধ্যমে দ্রুত জানাতে। সরকার বলছে, সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
এদিকে বুধবার সংঘটিত দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ অনেক এলাকা এখনো সম্পূর্ণভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।
ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের রাখা হচ্ছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সহায়তার ঘাটতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, আর নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে দেশজুড়ে।