খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই আগস্ট ২০২৬, ১:৭ এএম
বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত প্রথম ‘শহীদ’ সিয়াম শুভর পালক মা ও এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি শাপলা বেগমকে (৪৫) মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ সোমবার সকালে শহরের চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করে। আটককালে তার কাছ থেকে ৫০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত শাপলা বেগম বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি এলাকার মো. আশিকের স্ত্রী। তার পালিত ছেলে কিশোর সিয়াম শুভ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সেউজগাড়ী আমতলা মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পায় শুভ। ছেলে নিহত হওয়ার পর থেকে এলাকায় একটি বাড়তি সহানুভূতি ও সামাজিক পরিচয় তৈরি হয়েছিল শাপলার। তবে সেই পরিচয় ও পারিবারিক ট্র্যাজেডিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেও তিনি নিজের পুরনো অপরাধজগৎ থেকে বেরিয়ে আসেননি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, শাপলা বেগম বগুড়ার অন্যতম কুখ্যাত ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে। ইতিপূর্বেও একাধিকবার তিনি মাদকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাবাস করেছেন। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বারবার একই অবৈধ পেশায় জড়িয়ে পড়েন।
শুধু মাদক কারবারই নয়, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এই নারীর বিরুদ্ধে। গত বছরের আগস্ট মাসে শাজাহানপুর থানার একটি চুরি মামলার আসামি রনিকে গ্রেফতার করতে ডিবি পুলিশের একটি দল চকসূত্রাপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সে সময় শাপলা বেগম এবং তার স্বামী আশিকের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোটা, লোহার রড ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আভিযানিক দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ডিবি পুলিশের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে তিনি আদালত থেকে জামিন পান।
অভিযান পরিচালনাকারী বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, শাপলা বেগমের মাদক কারবারে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ও পুলিশ অতিষ্ঠ ছিল। সবশেষ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং মাদকের রুটগুলো ধ্বংস করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
মন্তব্য