রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজারের খাজা মার্কেটের আশিক টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে পাঁচতলা ভবনটির তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে জরুরি নম্বরে আগুন লাগার খবর পৌঁছায়। খবর পাওয়ার পরপরই লালবাগ ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন থেকে একের পর এক ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পৌঁছেই তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আগুন যাতে আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে, সে দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবনের প্রতিটি তলা তল্লাশি করে ভেতরে কোনো ব্যক্তি আটকা পড়ে আছেন কি না, তা যাচাই করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, দাহ্য পদার্থ কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে। একইভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি ফায়ার সার্ভিস।
চকবাজার পুরান ঢাকার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যবসাকেন্দ্রিক এলাকা। সংকীর্ণ সড়ক, পুরোনো ভবন এবং বিপুল মানুষের চলাচলের কারণে এ ধরনের এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আশপাশের ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখতে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই রাজধানীর কাঁটাবনের আল বারাকা টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুইজনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগের মান এবং অগ্নি প্রতিরোধে সচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।



