খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৮ এএম
বরিশালের হিজলা উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। অভিযোগ উঠেছে, পরিবেশবিধ্বংসী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই একদল ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করার পর পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের মোশারফ মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক মো. মাসুদ সরদার (৪০) পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হিজলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য এবং স্থানীয় দৈনিক টাইমস অব বরিশাল-এর হিজলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুদ সরদার জানান, স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি তাকে অভিযোগ করেন যে, ওই এলাকায় স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ‘আত্মঘাতী ড্রেজার’ ব্যবহার করে পুকুর ও ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এভাবে নির্বিচারে বালু তোলার কারণে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক এবং অন্যান্য স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ঘটনাস্থলে যান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন তুষার মিয়াজী, আবুল বাশার, আল-আমিন মিয়াজী, ইমরান সরদার, মিজানুর রহমান, আবু-সাঈদ বাবু, আবু-আব্দুল্লাহ ও আব্দুল্লাহ বিন কালাম। তাদের সঙ্গে আরও ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে মারধর করে তাকে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করেন মাসুদ সরদার। একই সঙ্গে তার হাতে থাকা ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে শুধু শারীরিকভাবেই নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তিনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।
ঘটনার পর হামলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হিজলা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত তুষার মিয়াজীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুলাইমান হোসেন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সংবাদ সংগ্রহের সময় একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশের ওপরও গুরুতর আঘাত। তারা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মনীতির বাইরে নদী, খাল বা পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ভূমিক্ষয়, সড়ক ও বসতভিটার ক্ষতি, জলাধারের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব অনিয়মের তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়ার ঘটনাও অতীতে একাধিকবার ঘটেছে। তাই সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
মন্তব্য