খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবদুল্লাহ আল মাসুম (১৪) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সোনাপুর–চেয়ারম্যান সড়কের মান্নাননগর কোম্পানীঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল্লাহ আল মাসুম জেলার হাতিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শূন্যের চর গ্রামের সৈয়দ মাঝি বাড়ির মাওলানা কাউছারের ছেলে। তিনি সদর উপজেলার জামিয়া ইসলামিয়া ফয়জিয়া মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়িতে খাবার খেয়ে বিকেলে মাদরাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন মাসুম। অটোরিকশাটি সোনাপুর–চেয়ারম্যান সড়কের মান্নাননগর কোম্পানীঘাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এতে অটোরিকশায় থাকা মাসুমসহ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মাসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানের চালক গাড়ি রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভ্যানটি আটক করে রাখে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
নিহতের মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়কটিতে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের বেপরোয়া গতির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।