জাতীয় দলের টি–টোয়েন্টি দলে দীর্ঘদিন জায়গা না পাওয়া বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ এবার ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ভাইটালিটি ব্লাস্টে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। কাউন্টি দল কেন্ট তাকে তিন ম্যাচের জন্য দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা তার সাদা বলের ক্রিকেটে ফেরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কেন্ট জানায়, ২৬ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসারকে আসন্ন তিনটি ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। তবে তার মাঠে নামা নির্ভর করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র পাওয়ার ওপর।
সম্প্রতি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন হাসান। অভিষেক ম্যাচেই ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি নজর কাড়েন ক্রিকেট মহলে। পরের ম্যাচেও ৩ উইকেট শিকার করে নিজের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেন এই পেসার। লাল বলের সেই সাফল্যই তাকে এবার টি–টোয়েন্টি দলে জায়গা করে দিয়েছে বলে মনে করছে ক্লাবটি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট শেষে দেশে না ফিরে সরাসরি ইংল্যান্ডে অবস্থান করেন হাসান। এবারই প্রথমবারের মতো বিদেশের কোনো ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি বা লিগভিত্তিক টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।
টি–টোয়েন্টি ব্লাস্টে মাঠে নামতে পারলে তিনি হবেন চতুর্থ বাংলাদেশি ক্রিকেটার, যিনি এই প্রতিযোগিতায় খেলেছেন। এর আগে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুস্তাফিজুর রহমান এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন।
কেন্টের সূচি অনুযায়ী, রবিবার হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হাসানের অভিষেক হতে পারে। এরপর দলটি খেলবে সারের বিপক্ষে এবং ১২ জুলাই মিডলসেক্সের মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২৬টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন হাসান মাহমুদ। সেখানে তিনি নিয়েছেন ২৮টি উইকেট। সবশেষ বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট শিকার করেন তিনি, যেখানে তার ইকোনমি ছিল মাত্র ৬ রান প্রতি ওভার।
লাল বলের পাশাপাশি সাদা বলের ক্রিকেটেও নিজেকে প্রমাণ করার এই সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন হাসান। কেন্টের বিবৃতিতে তিনি বলেন, ক্লাবের হয়ে আবারও খেলতে পেরে তিনি রোমাঞ্চিত এবং লক্ষ্য থাকবে দলের নকআউট পর্বে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।
দেশের বাইরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে আবারও জাতীয় দলের সাদা বলের পরিকল্পনায় জায়গা করে দিতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।