খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৬:৪ পিএম
আগামী সপ্তাহে চীনের উপকূলীয় শহর চিংদাওয়ের জলসীমা ও আকাশসীমায় একটি বড় ধরনের যৌথ মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী। আজ রবিবার (৫ জুলাই) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সময়ে দুই পরাশক্তির এমন যৌথ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে বেশ কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী ৬ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী এই সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
এক বিবৃতিতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মহড়ার উদ্দেশ্য ও পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহড়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর উভয় দেশের নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি যৌথ দল সামুদ্রিক টহল পরিচালনার জন্য প্রশান্ত মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হবে। মূলত যৌথভাবে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই সামরিক আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, এই মহড়াকে কেন্দ্র করে মস্কোর সামরিক প্রস্তুতি বেশ জোরালো। রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের একটি যুদ্ধজাহাজ (ক্রুজার), একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যে মহড়াস্থল অর্থাৎ চিংদাও উপকূলে এসে পৌঁছেছে। দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এই আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রুশ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের নানামুখী চাপের মুখে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্ক অনেক বেশি জোরালো হয়েছে। দুই দেশই নিজেদের জলসীমা ও আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একে অপরকে পারস্পরিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এর আগেও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই দুই পরাশক্তিকে যৌথ টহল দিতে দেখা গেছে। তবে চিংদাওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পয়েন্টে সাবমেরিন ও ক্রুজারসহ এমন ভারী যুদ্ধাস্ত্রের উপস্থিতি এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির জবাব দিতেই বেইজিং ও মস্কো এই যৌথ মহড়াকে বেছে নিয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে আধুনিক যুদ্ধকৌশল বিনিময়, নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং আপৎকালীন উদ্ধার অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যৌথ অনুশীলন চালানো হবে। এই মহড়া কেবল দুই দেশের সামরিক সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতেও একটি বড় বার্তা দেবে।
মন্তব্য