খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৩:১৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, আর সেই কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে যেকোনো ইরানি নেতাকেই ঠিক একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) ইসরায়েলের প্রভাবশালী টেলিভিশন -এর এক প্রতিবেদনে কাটজের এই বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্যটি প্রকাশ করা হয়। ঘটনাচক্রে, ঠিক যেদিন ইরানের রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে প্রয়াত নেতা খামেনির বিশাল শোক র্যালি ও শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক সেই সময়ই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে এই কড়া বার্তাটি এলো। কাটজ জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সময় এবং যেকোনো ধরনের হুমকির মুখে নিজেদের সীমান্ত ও জনগণকে রক্ষা করার জন্য ইসরায়েল সামরিক ও কৌশলগতভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের এই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এমন ব্যক্তিগত স্তরের হুমকি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ইসরায়েল কাটজ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে তেল আবিবের ‘হত্যার লক্ষ্যবস্তু’ (হিট লিস্ট) বলে জনসমক্ষে উল্লেখ করেছিলেন। সেই সময় কাটজের ওই মন্তব্যের পর ইরানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তেহরান এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো প্রতিবাদ জানায়।
কাটজের এই সাম্প্রতিক ও লাগামহীন হুমকির পর ইরানও চুপচাপ বসে থাকেনি। তেল আবিবের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণ ও আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করার মূল দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আরাগচি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইরানের সাধারণ জনগণ কিংবা দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক হুমকি আসলে, তার জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত তাৎক্ষণিক, সুনির্দিষ্ট এবং কঠোরভাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ এবং খামেনির মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া নতুন সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে এক নজিরবিহীন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতিতে তেল আবিবকে কতটুকু শান্ত রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য