খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের আজাদি সড়কে লাখো মানুষের এক বিশাল জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকেই এই ঐতিহাসিক শেষযাত্রায় শরিক হতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও শোকার্ত জনতা তেহরানের রাস্তায় নামতে শুরু করেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় আজাদি সড়ক ও এর আশপাশের সংযোগকারী সব রাস্তা।
স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ এই জানাজা ও শোকমিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। আয়াতুল্লাহ খামেনির কফিন বহনকারী একটি বিশেষ ট্রাক ধীরগতিতে বিশাল জনসমুদ্রের বুক চিরে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। শোকাহত জনতা কালো পোশাক পরে, প্রয়াত নেতার ছবি হাতে নিয়ে এবং ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে তাদের প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন। একই ট্রাকে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মরদেহও রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন তার মেয়ে, মাত্র তিন বছর বয়সী নাতনি, জামাতা এবং পুত্রবধূ। পুরো পরিবারকে একসাথে হারানোর এই বেদনাদায়ক দৃশ্য তেহরানের রাজপথে এক আবেগঘন ও কান্নামিশ্রিত পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ারে এসে এই শোকযাত্রার প্রথম ও প্রধান পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। তবে এখানেই শেষকৃত্যের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে না। তেহরানের কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শিয়া মুসলিমদের অত্যন্ত পবিত্র দুটি শহর হিসেবে পরিচিত কারবালা এবং নাজাফে তার মরদেহ নিয়ে বিশেষ ধর্মীয় ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোতে ধর্মীয় অনুসারীদের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিশেষ প্রার্থনা পর্ব শেষ করার পর মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর তার শেষ ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরানের পবিত্রতম শহর মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। খামেনির প্রয়াণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।