খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪৪ এএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ডাকাতি এবং পুলিশের তথ্যদাতাদের ওপর হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘কুত্তা ফারুক’সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চাপাতি, সামুরাইসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আদাবর থানা পুলিশ তাদের আটক করে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ফারুকের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল গভীর রাতে একটি মুরগির ফার্মে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। একই সঙ্গে সম্প্রতি আদাবর এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়া কিশোর গ্যাং নেতা বিল্লাল হোসেন ওরফে ভাইস্তা বিল্লাল এবং মউরা সোহেলের সহযোগীদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতির অভিযোগও উঠে এসেছে। বিশেষ করে পুলিশের তথ্যদাতা বা সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি পুলিশের।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্রগুলো নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে প্রায়ই ভাড়াটে সন্ত্রাসী ব্যবহার করে থাকে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও শরীয়তপুর ও মাদারীপুর থেকে কয়েকজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে অভিযানে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ধারালো অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়েছে। এসব অস্ত্র কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। পরে গ্রেপ্তার সাতজনকে থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সময় অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ তুলে ধরেন। অনেকের দাবি, বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে তারা দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়।
স্থানীয়দের মতে, শুধু গ্রেপ্তারই নয়, অপরাধী চক্রগুলোর অর্থের উৎস, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং অস্ত্র সরবরাহের পথ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে। পুলিশও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে এবং এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
মন্তব্য