হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু: মোট প্রাণহানি ৭৫৩, আক্রান্ত ৯৩ হাজার ছাড়াল

দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৮৬ জন। আজ শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মহামারি আকার ধারণ করা এই রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৩ জনে। সরকারি হিসাব মতে, মৃতদের মধ্যে ৬৬০ জনই হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এবং বাকি ৯৩ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মারা যাওয়া এই বিশাল সংখ্যার প্রায় সবাই শিশু হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে দিন দিন হাম আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন রোগী হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর এই যে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৮৯ হাজার ৭৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই সংকটাপন্ন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা থাকলে বা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে বাদ পড়লে হামের জটিলতা অনেক বেশি দেখা দেয়। তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ ওঠা, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি এই রোগের প্রধান লক্ষণ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার না করলে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল এবং শহরের বস্তি এলাকাগুলোতে যেখানে টিকাদানের হার কম, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।