খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রতিপক্ষ দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তুলনায় যেতে চান না ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জেতার চেয়ে থ্রি লায়নসদের বিশ্বসেরার ট্রফি এনে দেওয়াটাই এখন কেইনের একমাত্র মূল লক্ষ্য।
ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। মাঠের লড়াই শুরুর আগে কেইন ও হালান্ড—উভয়েই গোলদাতার তালিকায় বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। চলতি আসরে হালান্ড এখন পর্যন্ত ৭টি গোল করেছেন, যা কেইনের চেয়ে ঠিক একটি বেশি। অন্যদিকে, ৮টি করে গোল নিয়ে গোলদাতার তালিকার শীর্ষস্থানে যৌথভাবে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।
সম্প্রতি বর্তমান ফুটবল বিশ্বের এই দুই সেরা স্ট্রাইকারের মধ্যে কে সেরা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কেইন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে স্পষ্ট দ্বিমত প্রকাশ করেন। কেইন বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার জন্য অসম্ভব। প্রথমত, আমার মনে হয় আমরা দুজনে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার খেলোয়াড়। আমরা দুজনেই সিনিয়র স্ট্রাইকার হলেও মাঠে প্রায় দুটি ভিন্ন পজিশনে খেলি।’
নিজের খেলার ধরন বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে ৩২ বছর বয়সি এই ইংলিশ স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমি সমপরিমাণ গোল করলেও নিজেকে একটু ভিন্ন খেলোয়াড় হিসেবে দেখি। আমি হয়তো মাঠে নেমে বল একটু বেশি ছোঁয়া বা হোল্ড করা পছন্দ করি, তবে দলের প্রয়োজন হলে পুরোদস্তুর ‘নম্বর নাইন’ হিসেবেও খেলতে পারি।’
অবশ্য হালান্ডের পারফরম্যান্স ও গোল করার অসামান্য ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করতে ভোলেননি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আর্লিং অবিশ্বাস্য। শারীরিকভাবে সে একটা মেশিন, একটা দানব। ওর ফিনিশিং সর্বোচ্চ স্তরের এবং ওর গোল করার রেকর্ডই ওর হয়ে কথা বলে।’ খেলোয়াড় হিসেবে হালান্ডের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে কেইন কিছুটা রসিকতার সুরে যোগ করেন, ‘আশা করি আগামীকালের ম্যাচে ও কিছুটা শান্ত থাকবে এবং কোনো গোল পাবে না। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওর সামগ্রিক পারফরম্যান্সই বলে দেয় সে কতটা চমৎকার খেলোয়াড়।’
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকলেও কেইন মনে করেন, যেকোনো ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ জেতাটা হবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। কেইন বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা, গোল্ডেন বুট নয়। তবে আমি এটাও জানি যে আমি দলের মূল গোলদাতা ও নম্বর নাইন। তাই আমি গোল করলে তা স্বাভাবিকভাবেই দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’
এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার মাধ্যমেই ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন কেইন। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে তিনি কিংবদন্তি ওয়েন রুনির ১২০ ম্যাচের রেকর্ড স্পর্শ করবেন। এ নিয়ে ইংলিশ অধিনায়কের ভাষ্য, ‘ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ‘ওয়াজ্জা’র (রুনি) সমান ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের।’
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানের দিক থেকে নরওয়ের বিপক্ষে বেশ এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ৭-২ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংলিশরা। এমনকি শেষ চার দেখায় নরওয়ে ইংলিশদের জালে কোনোবারই বল জড়াতে পারেনি। তবে কোচ স্টেল সোলবাকেনের অধীনে বর্তমান নরওয়ে দলটিও দারুণ ফর্মে রয়েছে। তারা শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে এবং টুর্নামেন্টের ৫ ম্যাচে ১২টি গোল করে বর্তমানে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে। শনিবারের এই মহাযুদ্ধে যে দলটি জয়ী হবে, তারা সরাসরি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চলে যাবে। সেখানে তাদের লড়তে হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।