খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ১:৪২ পিএম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে সুইজারল্যান্ড শিবির। দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার ও তরুণ তুর্কি জোহান মানজাম্বি চোট কাটিয়ে সময়মতো মাঠে ফিরতে পারছেন না। ফলে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই নকআউট ম্যাচে তাঁকে ছাড়াই পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে সুইস টিম ম্যানেজমেন্টকে।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন এই দুঃসংবাদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাঁটুর তীব্র চোটে ভুগতে থাকা ২০ বছর বয়সি এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এখনও ম্যাচ খেলার মতো প্রয়োজনীয় ফিটনেস ফিরে পাননি। এই একই চোটের কারণে কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচেও তিনি মাঠের বাইরে সাইডবেঞ্চে বসে ছিলেন।
মানজাম্বির এই অনুপস্থিতিকে দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই দেখছেন কোচ ইয়াকিন। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগের সবচেয়ে ধারালো ও উজ্জ্বল নাম ছিলেন এই তরুণ ফুটবলার। মাত্র ২০০ মিনিট মাঠে থেকেই তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। এই অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিপক্ষের জালে ৩টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২টি গোল।
সংবাদ সম্মেলনে মুরাত ইয়াকিন নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানজাম্বির এই চোট আমাদের পুরো পরিকল্পনায় বড় একটা ধাক্কা দিয়েছে। সে দুর্দান্ত ছন্দে খেলছিল এবং মাঠে ওর উপস্থিতি পুরো দলের ওপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলত। চলতি টুর্নামেন্টে আমাদের এত দূর আসার পেছনে ওর অবদান ছিল দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই, এই ম্যাচে আমরা ওকে পাচ্ছি না।”
গ্রুপ পর্বে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে একাই জোড়া গোল করে সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রায় নতুন গতি এনে দিয়েছিলেন মানজাম্বি। তবে এই ইনফর্ম ফরোয়ার্ডকে ছাড়া শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে বেশ ভুগতে হয়েছে ইউরোপের এই দলটিকে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিট গোলশূন্য লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের ভাগ্যে জয় তুলে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে সুইসরা।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক অতীত রেকর্ডও সুইজারল্যান্ডের পক্ষে একদমই কথা বলছে না। ফুটবল ইতিহাসে দুই দলের মোট সাতটি দেখার কোনোটিতেই জয়ের মুখ দেখেনি ইউরোপের এই দেশটি। এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে আনহেল দি মারিয়ার করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
১২ বছর আগের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে মাঠে থাকা বর্তমান সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ এবারও দলে আছেন। পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে অধিনায়ক জাকা বলেন, “এক যুগ পর আমি এবং রিকি (রদ্রিগেজ) আবার একই মঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছি। তবে এবারের সুইজারল্যান্ড সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের খেলার মানসিকতা বদলেছে, দলে একঝাঁক প্রতিভাবান নতুন প্রজন্ম এসেছে এবং সব মিলিয়ে দেশের ফুটবল এখন অনেক বেশি পরিপক্ব।”
উল্লেখ্য, গত পাঁচটি বিশ্বকাপের মধ্যে চারবারই শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে ব্যর্থ হয়ে বিদায় নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। এবার তারা ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ইতিহাস বলছে, ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে যদি তারা এই ম্যাচে হারাতে পারে, তবে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার টিকিট পাবে সুইজারল্যান্ড।
মন্তব্য