খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩ এএম
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, প্রবাসী আয় এবং বিদেশ ভ্রমণ—সব ক্ষেত্রেই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশীয় আর্থিক বাজারের পরিস্থিতির প্রভাবেও প্রতিদিন বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য কিছুটা পরিবর্তিত হয়। ফলে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, প্রবাসী এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নিয়মিত বিনিময় হার জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজ ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো। এসব হার ব্যাংকভেদে সামান্য পার্থক্য হতে পারে এবং দিনের বিভিন্ন সময়েও পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
| মুদ্রার নাম | বাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার |
|---|---|
| ইউএস ডলার (USD) | ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা |
| ইউরো (EUR) | ১৪০ টাকা ২০ পয়সা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) | ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা |
| কানাডিয়ান ডলার (CAD) | ৮৬ টাকা ৭৫ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) | ৮৫ টাকা ৩৮ পয়সা |
| চাইনিজ ইয়ুয়ান (CNY) | ১৮ টাকা ১১ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরি ডলার (SGD) | ৯৫ টাকা ০৭ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি (INR) | ১ টাকা ২৮ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) | ৩০ টাকা ২৯ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল (SAR) | ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল (QAR) | ৩৩ টাকা ৮৪ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার (KWD) | ৩৯৮ টাকা ১৬ পয়সা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED) | ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা |
আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবিড় তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগ এবং প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহের কারণে সরকারি নির্ধারিত বিনিময় হার ও খোলাবাজারের দামের মধ্যে ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। এতে বৈদেশিক লেনদেনে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক মাসে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার প্রায় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই তুলনামূলক স্থিতিশীলতা আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে অধ্যয়ন, চিকিৎসা বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা ব্যক্তিদের জন্যও পরিকল্পনা করা কিছুটা সহজ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত রাখা, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদান ইতিবাচক থাকলে ভবিষ্যতেও বিনিময় হারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকবে।
তবে মুদ্রাবাজার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক ডলারের চাহিদা, জ্বালানির দাম এবং অন্যান্য আর্থিক সূচকের ওপর নির্ভর করে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে কোনো আন্তর্জাতিক লেনদেন, বৈদেশিক অর্থ প্রেরণ বা মুদ্রা বিনিময়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিনিময় হার যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মন্তব্য