খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজ গ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকায় এসেছিলেন মো. রাকিব (২৮)। পড়াশোনা শেষ করে চাতক পাখির মতো খুঁজছিলেন একটি ভালো চাকরি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ সকালে ছিল সেই কাঙ্ক্ষিত চাকরির ইন্টারভিউ। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে ইন্টারভিউ বোর্ডে আর পৌঁছানো হলো না তার। তার আগেই রেললাইনের ওপর ঝরে গেল এই তরুণের তাজা প্রাণ।
রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন রাকিব। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রাকিব ভোলা জেলার দৌলতখান থানার চর খলিফা গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি সম্প্রতি সফলতার সঙ্গে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ঢাকায় তখন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। রাকিব তার কাঙ্ক্ষিত ইন্টারভিউয়ের উদ্দেশ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে কুড়িল রেলগেট এলাকার রেললাইন পার হচ্ছিলেন। সে সময় একটি দ্রুতগামী ট্রেন চলে আসলেও মাথায় ছাতা থাকার কারণে এবং বৃষ্টির শব্দের দরুন তিনি সম্ভবত ট্রেনের হর্ন কিংবা ইঞ্জিনের গর্জন শুনতে পাননি। অসতর্কতাবশত রেললাইনে পা রাখতেই ট্রেনটি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে তিনি মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় রাকিবকে পড়ে থাকতে দেখে আবু রায়হান নামে এক পথচারী ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সকাল ৮টা ১০ মিনিটে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন রাকিবের বাবা মফিজুল ইসলাম। তিনি জানান, ছেলে সদ্য অনার্স পাস করেছে। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়িয়েছেন যাতে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। চাকরির একটা ব্যবস্থা হবে—এই আশায় বুক বেঁধে ভোলা থেকে ঢাকায় এসেছিল রাকিব। আজকের দিনটি তাদের পরিবারের জন্য নতুন আলোর বার্তা নিয়ে আসার কথা ছিল, কিন্তু একটি অসতর্কতা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতাল থেকে ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। রাজধানীতে অসতর্কভাবে কান বা মাথায় কিছু দিয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় প্রায়শই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে, যা প্রতিরোধে পথচারীদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।