খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর, চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করাসহ নানা নীতিগত ও রাজনৈতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সভার এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে, শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সশরীরে অংশ নেন। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
সভায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানের কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটি। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। জনকল্যাণমূলক এসব কর্মসূচি সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্থায়ী কমিটির নেতারা।
তবে সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিপরীতে বিরোধী দলগুলোর জোটের ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটের দাবিকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবং জনগণের কাছে বিএনপির অবস্থান ও মূল এজেন্ডাগুলো আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য দলীয় প্রচার এবং সাংগঠনিক তৎপরতা একযোগে জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামনে আসতে যাওয়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিএনপির জাতীয় কার্যকরী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার সার্বিক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। সভায় ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। এই নির্বাচনের সার্বিক ভালো-মন্দ দিক তুলে ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিভিন্ন দিক ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, বন্ধুপ্রতিম এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও মজবুত করতে এই সফরগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে। একটি সফল ও দূরদর্শী কূটনীতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানায় স্থায়ী কমিটি।
তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সভায়। যুদ্ধ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে সভার নেতৃবৃন্দ বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের কারণে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব অর্থনীতি আজ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে।
একই সঙ্গে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থায়ী কমিটির মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এর ফলে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক ভূমিকা রাখতে পারবে। সবশেষে দেশের অভ্যন্তরে মাদক সমস্যার ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দলীয় কার্যক্রমকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত আরও সক্রিয় করতে যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য