ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি, আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও লেনদেনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হারে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের দাম আবারও বেড়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেনেও দেখা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সমন্বিত নীতির অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার প্রক্রিয়া চলছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দাম ১৩ পয়সা এবং সর্বোচ্চ দাম ১৫ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে।

আন্তঃব্যাংকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিক্রয়মূল্যেও পড়েছে। ফলে আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে। এর আগে একই খাতে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সার আশপাশে স্থিতিশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সমন্বয়ের ফলে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আন্তঃব্যাংকে সর্বনিম্ন দাম ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে এবং কিছু লেনদেনে সর্বোচ্চ প্রায় ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি জোরদার হওয়া, রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক থাকা এবং রপ্তানি আয় স্বাভাবিক থাকায় খোলাবাজার ও ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হারের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী বিনিময় হারকে বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রক্রিয়ায় ডলারের দামে ধীরে ধীরে সমন্বয় হচ্ছে।

ডলারের দাম বৃদ্ধি আমদানিনির্ভর ব্যবসার ব্যয় বাড়াতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্য ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে অতিরিক্ত খরচের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য বৈদেশিক ব্যয়ের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের তুলনামূলক বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে। অন্যদিকে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রায় প্রাপ্ত অর্থ কিছুটা বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজ (১৩ জুলাই ২০২৬) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সর্বনিম্ন বিনিময় হার নিম্নরূপ—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার ১২৩ টাকা ০০ পয়সা
ইউরো ১৪০ টাকা ৩৭ পয়সা
পাউন্ড স্টার্লিং ১৬৪ টাকা ৮৮ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার ৮৬ টাকা ৮৬ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন ১৮ টাকা ১৩ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার ৯৫ টাকা ১৯ পয়সা
ভারতীয় রুপি ১ টাকা ২৯ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩০ টাকা ৩২ পয়সা
সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা
কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা
কুয়েতি দিনার ৩৯৯ টাকা ২৪ পয়সা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৩৩ টাকা ৬৮ পয়সা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি-রপ্তানির প্রবণতা, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তাই প্রতিদিনের বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে এবং ব্যাংকভেদেও ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যে সামান্য পার্থক্য দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।