খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩২৭ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই পরিসংখ্যানের পর চলতি বছরে এডিস মশার কামড়ে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ জনে।
অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর রূপ বেশ আক্রমণাত্মক। জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনেই দেশে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার হিসেবে যে দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত একদিনে আক্রান্তদের মধ্যে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে কেবল ঢাকা বিভাগের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেই মোট ২৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুর থাবায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই অঞ্চল; বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই বিভাগেই সর্বোচ্চ ১২ জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। ঢাকার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। গত একদিনে সেখানে নতুন করে ৬১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৩৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৪৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের সীমানার বাইরে ঢাকা জেলার অন্যান্য অঞ্চলের হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হয়েছেন আরও ৬১ জন রোগী।
আশার কথা হলো, আক্রান্তের পাশাপাশি সুস্থতার হারও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৩০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৮ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জন। বর্ষার এই মরসুমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করার তাগিদ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।