চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ড জানিয়েছে, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্যালোচনায় কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসংগতি প্রমাণিত হলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে কোনো পরীক্ষার্থী কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বরও দেওয়া হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এবং মতামত পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের যথার্থতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রশ্ন প্রণয়ন, পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং উত্তর প্রদানের যৌক্তিকতা—সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বোর্ড স্পষ্ট করেছে, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। যদি তদন্তে দেখা যায় যে প্রশ্নে প্রকৃতপক্ষে কোনো ত্রুটি ছিল বা তা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার মতো ছিল, তাহলে পরীক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর প্রদানসহ পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পরীক্ষা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পরীক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের মতামত, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের নীতিমালা এবং পরীক্ষার মানদণ্ড বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, যাচাই না করা তথ্য প্রচার করলে অযথা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক পরীক্ষার্থী দাবি করেন, প্রশ্নগুলোর ভাষা, উপস্থাপন বা বিষয়বস্তুর কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এই অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং পর্যালোচনায় কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বোর্ডের এই আশ্বাসে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মন্তব্য