খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
এইচএসসি পরীক্ষার চলতি সময়সূচি পরিবর্তন, প্রশ্নপত্রের মান ও সাম্প্রতিক অতিবর্ষণজনিত চরম ভোগান্তির প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। এ সময় তারা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না’, ‘বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা নয়’ এবং ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক কর্মসূচিতে প্রেস ক্লাব সংলগ্ন রাস্তায় কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোস্তফা সরকার এবং মানবিক বিভাগের শরিফ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী সাকিব আল হাসানসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
পরীক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ ছিল সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়া নিয়ে। তারা জানান, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো কুড়িগ্রামেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই শিক্ষা প্রশাসন পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরীক্ষার্থীকে মাইলের পর মাইল কাদা-পানি মাড়িয়ে কিংবা নৌকাযোগে চরম ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে যাওয়ার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যা তাদের পরীক্ষার খাতায় সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের সার্বিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখাটাই যৌক্তিক ছিল। কিন্তু নীতিনির্ধারকেরা মাঠপর্যায়ের এই মানবিক সংকটকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন।
আবহাওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়েও বড় ধরনের জালিয়াতি ও ভুলের অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে বেশ কিছু গুরুতর ভুল ছিল। প্রশ্নপত্রের এমন মানহীনতা পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে বিভ্রান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই ভুল প্রশ্নপত্র তৈরির পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে বলেন, মানসম্মত বা কঠিন প্রশ্ন নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা কিংবা ভুল প্রশ্ন দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর বাইরে গত ১৩ জুলাই চুনারুঘাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে যে সমস্ত পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর জন্য অতি দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও বিকল্প পরীক্ষা বা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।