খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ১১:১২ এএম
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একদিনে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলার তিনটি আলাদা ইউনিয়নে এই ঘটনাগুলো ঘটে। আত্মহনন ও অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুর ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নে। সেখানকার পশ্চিম পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রফিক কন্টর মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া (৩২) নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা যান। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, জামাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি নিজের ঘরে এই চরম সিদ্ধান্ত নেন, যা পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
একই দিনে দ্বিতীয় আত্মহননের ঘটনাটি ঘটে পাইকপাড়া ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের উজ্জ্বলপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম (৪০) অজ্ঞাত কারণে বিষপান করেন। ছটফট করতে থাকা অবস্থায় পরিবারের লোকজন দ্রুত টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান। কী কারণে তিনি বিষপান করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, সদর ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে ঘটেছে একেবারে ভিন্নধর্মী এক দুর্ঘটনা। সেখানে গভীর রাতে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিপন মিয়া (২১) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি টের পেয়ে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অসাবধানতা এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন বেআইনি কাজ করতে গিয়েই তরুণটির প্রাণ গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম একই দিনে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছে। প্রতিটি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাগুলো আত্মহত্যা, পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য