খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
কলাম লেখক ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি করার অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হওয়ার দীর্ঘ তিন বছর পর অবশেষে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের কাছ থেকে সুদে-আসলে মোট ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্যারলের আইনি দল।
গত মঙ্গলবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাতে পারছি যে, বিজ্ঞ জুরির রায় অনুযায়ী ই. জিন ক্যারল তাঁর নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ হাতে পেয়েছেন।”
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনি প্রক্রিয়ার নানা ফাঁকফোকর গলে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল মামলাটিতে আপিল শুনানি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা। তবে ট্রাম্পের এই দীর্ঘসূত্রতার প্রচেষ্টা সফল হয়নি। গত সপ্তাহে মামলার শুনানিতে বিচারক তাঁকে অবিলম্বে ক্যারলের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করার কঠোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনার আবেদনটি খারিজ করে দিলে ক্যারলের অর্থ পাওয়ার পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়। অবশ্য এই অর্থ পরিশোধের বিষয়ে ট্রাম্পের আইনজীবী দলের কোনো প্রতিনিধি সংবাদমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারল একসময় একটি জনপ্রিয় সাময়িকীর কলাম লেখক ছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে অবস্থিত বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক বদলানোর কক্ষে (চেঞ্জিং রুম) ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। ক্যারলের মতে, ট্রাম্পের ওই বক্তব্য তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং তাঁর চরম মানহানি ঘটিয়েছে।
২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি বোর্ড সর্বসম্মতভাবে ক্যারলের পক্ষে রায় প্রদান করে এবং ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প তখন রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতের নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন, যেন আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যারল সেই অর্থ তুলতে না পারেন। তবে চূড়ান্ত রায়ে ক্যারলের আইনজীবীরা জানান, মূল ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আপিল চলাকালীন সময়ে জমা হওয়া সুদসহ ট্রাম্পকে মোট ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতের এই নির্দেশনার তীব্র সমালোচনা করে পুরো মামলাটিকে একটি ‘প্রতারণা’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ঘটনা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আসন্ন রাজনৈতিক পথ রুদ্ধ করতেই ডেমোক্র্যাটরা এই মামলার পেছনে বিপুল অর্থায়ন করেছে। এ ছাড়া ট্রাম্প অভিযোগ করেন, দেওয়ানি মামলার বিচারক লুইস ক্যাপলান এমন কিছু প্রমাণ জুরিদের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, যা তাঁদের ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেছিল।
তবে গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত জুরির রায় বহাল রেখে জানান, বিচারক ক্যাপলান এমন কোনো আইনি ভুল করেননি যার কারণে মামলাটির নতুন করে বিচার করার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে আইনি লড়াইয়ে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ই. জিন ক্যারল তাঁর ব্যক্তিগত সাবস্ট্যাক ব্লগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমরা জিতেছি! এই বিজয় বিশ্বের প্রতিটি নারীর জন্য।” উল্লেখ্য, এখানেই ট্রাম্পের আইনি জটিলতা শেষ হচ্ছে না। ২০২৪ সালে আরেকটি পৃথক মানহানির মামলায় জুরি বোর্ড ক্যারলকে ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দিয়েছিল, যার বিরুদ্ধেও ট্রাম্প আপিল করেছিলেন। তবে গত বছর ফেডারেল বিচারকদের একটি বেঞ্চ ট্রাম্পের সেই আপিলটিও খারিজ করে দেন।