খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এক বিরল ও গৌরবময় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। উপজেলার বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) বৃত্তি লাভ করেছে যমজ তিন ভাইবোন। দুই ভাই ও এক বোনের এমন অভাবনীয় সাফল্য স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে। একই সাথে তিন যমজ ভাইবোনের এই কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল এখন সখীপুরের সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত হচ্ছে।
এই কৃতি তিন শিক্ষার্থীর নাম ফাতেমা আক্তার, আনাস আল মামুন ও আরাফাত আল মামুন। ১২ বছর বয়সী এই তিন সহোদরের বাড়ি উপজেলার ঘাটেশ্বরী গ্রামে। তাদের বাবা মো. শামীম একজন প্রবাসী এবং মা আর্জিনা আক্তার পেশায় একজন শিক্ষিকা। মায়ের শিক্ষকতার সুবাদে ঘরেই পড়াশোনার একটি চমৎকার পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, প্রবাসে থেকেও বাবা মো. শামীম প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত সন্তানদের পড়াশোনার খোঁজখবর নিতেন এবং তাদের আরও ভালো করার প্রেরণা জোগাতেন। পারিবারিক সুশাসন এবং বাবা-মায়ের যৌথ প্রচেষ্টাই তাদের এই অসাধারণ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোট আটজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে চারজন ট্যালেন্টপুলে এবং চারজন সাধারণ গ্রেডে সাফল্য অর্জন করে। বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় হলো, ট্যালেন্টপুলে স্থান পাওয়া চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনই এই যমজ ভাইবোন। প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে তারা বর্তমানে সখীপুর পিএম পাইলট মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে এবং সেখানেও তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
যমজ তিন শিক্ষার্থীর এই অনন্য সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী বলেন:
“ফাতেমা, আনাস ও আরাফাত অত্যন্ত বিনয়ী, মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। একই সাথে তিন যমজ ভাইবোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
কৃতি শিক্ষার্থীদের মা ও ঘাটেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আর্জিনা আক্তার জানান, সন্তানেরা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি দারুণ অনুরাগী ছিল। তারা একে অপরকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করত এবং তাদের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার মনোভাব ছিল। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রবাসে থাকা বাবার নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও মানসিক সমর্থন সন্তানদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। সন্তানদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারা যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে।
সখীপুর উপজেলার এই তিন মেধাবী শিক্ষার্থীর যৌথ জয়যাত্রা প্রমাণ করেছে যে, মেধা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পারিবারিক সংহতি থাকলে যেকোনো বড় লক্ষ্যই একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব। স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষাবিদগণ মনে করছেন, এই যমজ ভাইবোনের সাফল্য অঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।