শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। তবে কর্মসূচির একপর্যায়ে সচিবালয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিভক্তির সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং একজন সাংবাদিকের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন। একদল শিক্ষার্থী সায়েন্সল্যাব এলাকা থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে দাবি জানানো।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে ঘিরে আগে থেকেই সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা হওয়ায় সচিবালয়ের আশপাশের সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে জানা যায়।
সচিবালয়ের সামনের এলাকায় পৌঁছানোর পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ভেতরে প্রবেশ করা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। কে বা কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন, প্রতিনিধি দল কীভাবে যাবে—এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। একপর্যায়ে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন তারা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, তারা কার সঙ্গে দেখা করতে চান এবং তাদের নির্দিষ্ট প্রতিনিধি কারা। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি আন্দোলনকারীদের অনেকেই। বরং কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উত্তেজিত আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে একজন সাংবাদিকের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে পুরো পরিস্থিতিতে সচিবালয়ের সামনে বড় ধরনের জমায়েত দেখা যায়নি। উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
আন্দোলনকারীদের এই কর্মসূচি মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয়েছে।
তবে কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনের মতো জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা ও স্পষ্ট নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়।
মন্তব্য